অবিশ্লেষ্য

ভেবে দেখেছি
অনেকটাই ফাঁপা হলেও হয়ত কোনও এক বিস্মৃত কালে
যা আজ মনে হয় আদিমানবের দেওয়ালে প্রথম আঁচড় কাটার দিন
কিছুটা সত্য বাঁচিয়ে রেখেছিলাম, কিছুটা সময়
তোমার জন্য |
আজ এই তাত্ক্ষণিক জীবনের যুগে
হঠাত্ ভেবে ফেললে হয়ে যাই অপরাধী
হয়ত কখনো ছিল না কিছু এই
ঘৃণ্য পাতলা তামাটে চামড়ার তলায়
ছিল কেবল ডারউইনের সেই যুগ-যুগান্তরের
জড় তপস্যার বর
বিস্ময়কর চলমান মানব যন্ত্র |
নিজেকে ভুলে ভেবে ফেলেছে সজীব আত্মা,
ভেবেছে তার একঘেয়ে তামাটে চামড়ার তলায়
অনুবীক্ষণ যন্ত্রে ধরা পরে না এমন সত্য রয়েছে
আমি ভেবেছিলাম সেই সত্যের কথা,
কিছুটা সময়ের জন্য
আমি আর বোকা নই |
স্মৃতির কৌটোর সেই জং ধরা পেরেকটা
আজ জানি ছিল এক প্রাগৈতিহাসিক ভুল
চলে গিয়ে বেশ করেছ |
সেই নক্ষত্রদের মাঝের ইথারেই যখন শেষমেষ
মিশে যেতে হবে অনাড়ম্বরে,
খামোখা খুচরো এই সময়টায়
বৃথা মায়ার টুকিটাকি কুড়িয়ে লাভ দেখি না |
ডারউইনের বিবর্তনের ঝান্ডাই উড়বে; আমি ধরে থাকব |
আদিমানবের হারানো যুগে ভেবেছিলাম
অনুবীক্ষণ যন্ত্রে যে স্বল্প সত্য চোখে পড়ল না,
সেই কিঞ্চিত্ সম্বলই জীবনের এই অহেতুক উত্সবে
উপহার দেব তোমায় |
আজ জেনেছি সে মানবিক নয়, আণবিক |
যা হয়েছিল, যা হয়েছিলাম আমরা, ভেবো না তা বিশ্লেষণ করা গেল না |
মনুষ্যজাতিকে দিকপ্রান্তে ছড়িয়ে দিতে
প্রতিটি মানুষের চামড়ার নীচে যে জৈবিক পাশবিক রস থাকে,
সে তারই রসায়ন |
বিবর্তনের শিষ্য আমি আজ
প্রত্যেকের অনুবীক্ষণকে ধোঁকা দেওয়ার আকাঙ্খা পন্ড করব
যদ্দিন না ভুলের মাশুল তুলছি |
তোমাকে ভুলব
ভুলব স্মৃতির কৌটোর ভয়-লাগানো, জং-ধরা পেরেকটাকে
ভুলব আর যা কিছু মনে করিয়ে দেয় তোমার চোখ, কথা, চিন্তা
ভুলব আণবিক স্তরের অবিশ্লেষ্য সুন্দর সত্যের কথা
তারপর একরাতে ক্ষণিক জীবনের এই অহেতুক উত্সব ছেড়ে
নক্ষত্রদের মাঝের ইথারে দেব পাড়ি, অনাড়ম্বরে |