The self-renewing labyrinth

stairsThe other day, as I was simplifying some code I have written, I had a ‘realization’ about the nature of living.

(One might say that I have these too frequently. I suspect that psychedelics are partly to blame.)

It is tricky to articulate the realization, so it may be fun to try.

For my graduate school research, I have been building a sizable, complex software system with several interlinked modules, and am frequently confused by it myself as I improve or debug it. The other day, I noticed a minor aspect that could be simplified. But as I was about to do so, a small, annoying thought lingered for a moment: the simpler way seems obvious, so why had I written the more complex version in the first place? I suspected that I may have unwittingly complicated this aspect of the system while simplifying a different one.

Doesn’t that mean that my current ‘simplification’ project could again unknowingly complicate some other aspect of the code that is outside my present focus? Will this game continue forever, as I keep only solving problems in the code every day, yet unfathomably the behemoth persists, sprouting new complexities and problems every time one is struck down?

Where is the source of this dilemma? Well, let’s consider the feeling of gratification that arises when you solve a problem. Like many others, I look to this sense as a measure of progress, a reward for effort and time spent well. But is this feeling always a reliable indicator for true progress? I must have got the feeling even when a solution I just implemented produced a new unseen issue beyond my field of attention. As soon as a system is so complex that all of its parts and relations, causes and effects cannot be held in the mind at once, such lapses would invariably begin to occur. If a software system of a handful of interlinked programs is complex enough to delude true progress, what about more complex systems such as the economy, society, environment, with their innumerable interacting parts and participating agents with independent choices? This is a recipe for an endless self-renewing labyrinth, constantly feeding its captives a false sense of absolute progress towards a single simplest end.

I can’t claim to have really read Nietzsche, but he spoke of eternal recurrence. What if this sense of moving forward in life, of evolution, improvement, progress, is an illusion? What if it is an endless circle? We consider ourselves to be far more advanced than primitive societies. We have civilization, technology, medicine, civil rights and social justice, an increasingly interconnected global nervous system of information and economy. Every generation finds absolute ills with the previous, and strives to change the world to remedy them. There is a vision of utopia that the human enterprise is purportedly inching, sometimes bounding toward. At this rate, we ought to be many degrees more fulfilled than our primitive ancestors.

Are we? I profess to deeply doubt this commonly accepted notion of advancement through the eons. Haven’t we heard time and again that science, technology, religion and law have created as many problems as they have solved? We live physically in an increasingly polluted world amid an excess of material possessions, while struggling mentally with an excess of shallow, impulsive culture. The problem of too little has been solved with a device of too much. Like the shark that needs to keep swimming to breathe, our society needs to produce and consume at ever-escalating rates to keep up with its own needs. Yes, we are measurably better in terms of what we care about measuring today, such as GDP. But haven’t we lost sight of certain other measures that were abundantly clear to simpler societies, such as happiness, rest and communion with nature, and been silently regressing along those dimensions?

No, my realization at my work desk was not that a return to a simpler society of sustenance economy would solve the issues I am talking about. Nor even was it a bulletproof prescription that we consider a wider, global view of any system before we attempt to improve it, and all will be well. My intuition was much more dire: that such absolute progress is fundamentally impossible in this world. Life is a self-renewing labyrinth in its very nature, beyond our power and control. Like the endlessly ascending Escher’s stairs or the endlessly rising Shepard’s tone, it readily provides an obvious sense of relative advancement, while in the global picture shrouded from our finite eyes, nothing ever gets anywhere. Life deludes us with the illusion of unidirectional progress, while cycling and resetting all the time.

But this realization is equally liberating when we see that so it must be. When we see war, poverty and environmental destruction, we ascribe it so often to the intention of corrupt, malicious people, and this idea of absolute evil is born. Is it not more plausible that they, too, were only trying to solve some other relative, finite problem in their time? Indeed, how could life be so limitlessly varied across vast stretches of space, eons of geological time, and the ceaseless struggle and drama of different peoples, if it does not endlessly renew itself, and transmute its good into its evil? I find it difficult to believe in a story of the world that is marching along a finite linear trajectory from its beginning to an ultimate equilibrium. Instead, not only do I increasingly believe that this game is perpetually regenerating, but feel quite content to play it, to participate in its dopamine hits of illusory success and failure, its apparent purpose and meaning, its ever-shifting good and evil. Let me end then by asking you what Nietzsche asked: if life only goes through eternal recurrence, how would you like to play?

ভুলের মাশুল

[বাবার লেখা সত্যি ঘটনা ]

“ট্রেনের ধাক্কায় মৃত এক পরিবারের ছয় জন” — বড় বড় হরফে সংবাদ শিরোনাম (আনন্দবাজার পত্রিকা, ৮ই আগস্ট, ২০১৫)।

বিস্তারিত খবর পড়ে জানলাম মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের কাছে এক গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে বিহারের এক পরিবার। দুর্ঘটনার দিন তাঁরা সবাই যাচ্ছিলেন রেল লাইনের অপর পাশে অন্য এক আত্মীয়ের বাড়ি। রেলগেট থাকা সত্বেও সেখানে লাইন পার না হয়ে রেল লাইন বরাবর হাঁটছিলেন তিন মহিলা, প্রত্যেকের কোলে শিশু; ও এক বালক। সামনেই খাল — সেই খানে রেল লাইনের নীচে পাতা আছে লোহার পাত। তার দুই পাশ ফাঁকা। সেই পাতটির উপর দিয়ে খাল পার হওয়ার সময়ে পিছন থেকে চলে আসে এন জে পি – হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস। ট্রেনের ধাক্কায় তিন মহিলা, প্রত্যেকে কোলে শিশুসহ, ছিটকে পড়েন খালের জলে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান ছয়জনই। শুধু বালকটি বিপদ বুঝে খালের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষা করেছে।
খবরটা আমার এক ভয়ংকর স্মৃতিকে আবারও জীবন্ত করে তুললো আর সেই সঙ্গেই এক হিম শীতল রক্তের স্রোত এত বছর পরেও নিজের শিরদাঁড়ায় অনুভব করলাম। এমন শোচনীয় মৃত্যু তো আমার আর ভূপীর জীবণেও আসতে পারতো!

বছরটা ১৯৮৭-৮৮, সে বছর উত্তরবঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলায় তোর্ষা আর সঙ্কোশ নদীর অববাহিকা অঞ্চলে জয়ন্তী-কামাক্ষ্যাগুড়ি এলাকাতে ভূ-তাত্বিক মানচিত্রণের কাজ করতে গিয়েছি। সঙ্গী অনুজপ্রতিম ভূপী। দুইটি জিপ, চালকদ্বয়ের নাম তালুকদারবাবু ও চক্রবর্তীবাবু। কাজের সুবিধার জন্য উত্তরাংশের কাজ করি জয়ন্তীতে থেকে, আর দক্ষিণ অংশে কাজ করি কামাক্ষ্যাগুড়িতে থেকে। চালক তালুকদারবাবুর থেকে কাজের ব্যাপারে যে সহযোগিতা পাই অপর চালক চক্রবর্তীবাবুর কাছে তার ছিটেফোঁটাও পাই না। বাধ্য হয়েই প্রতিদিন ভূপীর সঙ্গে আলোচনা করে কাজের এলাকা এবং গন্তব্যপথ এমন ভাবে পরিকল্পনা করতে হয় যাতে দূরবর্তী এলাকায় তালুকদারবাবুকে নেওয়া যায় আর নিকটবর্তী এলাকায় চক্রবর্তীবাবু।

সেই দিন পরিকল্পনা হলো কামাক্ষ্যাগুড়ি ক্যাম্প থেকে রওনা দিয়ে রায়ডাক নদীর উপর যানবাহন চলাচলের ব্রীজ পার হয়ে নদীর অপর পাড়ে গাড়ি ও চালক ছেড়ে দেব। চালক নির্দিষ্ট সময়ে রায়ডাক নদীর উপর যেখানে রেল সেতু পার হচ্ছে সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করবেন। আমরা পায়ে হেঁটেই দিনভর নদীর অপর পাড়ে কাজ করব। তালুকদারবাবুর গাড়ি নেওয়া হলো।

ভূপীকে নিয়ে দিনভর বিস্তীর্ণ এলাকা চষে বেড়িয়েছি। দিন শেষে ক্লান্ত শরীরে হাজির হলাম রায়ডাক নদীর উপর রেলসেতুর প্রান্তে। এখানে নদী বেশ চওড়া এবং সেতুর অনেক নীচ দিয়ে বইছে। ভূপী আর আমি রেলসেতুতে উঠেছি। আপ-ডাউন লাইনের পার্শ্ববর্তী অংশ এবং মাঝ বরাবর পুরু ইস্পাতের পাত। আমরা সেই পাত বরাবর হেঁটে চলেছি।

কিছুদূর চলবার পর দেখতে পেলাম ঐ পুরু ইস্পাতের চাদরও ক্ষয়ে গিয়ে জায়গায় জায়গায় গহ্বর, আর মরচে ধরা দুর্বল অংশ। পাতে গহ্বরের মধ্য দিয়ে দেখা যাচ্ছে অনেকটা নীচে বহমান রায়ডাক। বেখেয়ালে পাতের দুর্বল অংশে পা দিলেই সটান নদীর জলে পড়ব। অতি সন্তর্পনে চলতে হচ্ছে। ধীরে ধীরে মনকে এক ভয় গ্রাস করছে। পায়ের নীচে গহ্বর দিয়ে নদীর বহমান জল দেখেই মনে সৃষ্টি হচ্ছে বিভ্রম — সেতুটা যেন তীব্রগতিতে এক দিকে সরে যাচ্ছে, নদীর জল স্থির। সেতুর স্বাস্থ্যের হাল হকিকত না জেনেই পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যে কত বড় ভুল হয়েছে তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছি। ভয় আমাদের এমনভাবে গ্রাস করলো যে এক সময় সোজা দাঁড়িয়ে হাঁটবার অবস্থাও চলে গেল। রীতিমত চার হাত পায়ে হামাগুড়ি দিতে লাগলাম। অনেক চেষ্টায় সেতুর মাঝ বরাবর পৌছলাম।

এমন অবস্থায় ভূপী হঠাৎ পাতের উপর এক মৃদু স্পন্দন অনুভব করলো। দু’জনেই মুখ চাওয়াচায়ি করছি কারণ বুঝতে। সামনে যতদূর চোখ যায় সেখানে এমন স্পন্দনের কোন কারণ দেখলাম না। শুধু দেখলাম সেতুর শেষ এখনও বেশ কিছু দূরে।

“বিশুদা পিছনে দেখুন” — ভূপীর আতঙ্কিত কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম। দূরে যেখানে সব লাইন এক বিন্দুতে মিলেছে সেখানে দেখলাম আমাদের মৃত্যুদূত। সেতুর উপরে দুইজন অসহায় একে অন্যের মুখের দিকে চেয়ে রয়েছি, বহু নীচে রায়ডাকের জল। সাঁতারও জানি না। নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। ইঞ্জিনের হুইশেল শুনলাম। সারা শরীর অবশ, মনে হচ্ছে জ্ঞান হারাবো। ইঞ্জিন আরও কাছে আসতে বোঝা গেল ভূপী যে লাইন ধরে চলছে বিপদ সে লাইনেই। আমি চিৎকার করে ওকে বললাম আমার দিকে চলে আসতে। এতটুকু সময় নষ্ট না করে ভূপী আমার কাছে সরে আসলো। এবার মৃত্যুদূতকে আরও কাছে দেখতে পেলাম- রেক ছাড়া একাকী ইন্জ্ঞিন। দুটো দেহকে টুকরো টুকরো করে নদীর জলে ফেলে দিতে সে একাই যথেষ্ট। সেতুর এ পারে রেলিঙের যত কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব সেখানে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে রইলাম। ভয়ার্ত চোখে দেখলাম দানবটা সেতু কাঁপিয়ে চলে যাচ্ছে, আর চালক তীব্র ভর্ৎসনার দৃষ্টি দিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে। বেঁচে থাকবার আনন্দে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেছি।

চকিতে সম্বিৎ ফিরলো — আর একটুও দেরী নয় — এখনই সেতুর অপর পাড়ে পৌছতে হবে। মনের সমস্ত জোর একত্রিত করে সেই ভাঙাচোরা ইস্পাতের পাত, রেলের লাইন, কাঠের স্লিপার যেখানে যেমন পেলাম তার উপর দিয়ে প্রায় দৌড়েই রেলসেতুর অপর দিকে পৌছলাম। এতক্ষণে বিশ্বাস হলো এ যাত্রা আমরা বেঁচে ফিরেছি!

সামান্য দূরে গাছের ছাওয়ায় গাড়িতে তালুকদারবাবু নিদ্রামগ্ন।

ভুল পথে হেঁটে ঐ বিহারী পরিবারকে চরম মাশুল দিতে হয়েছে; একই অপরাধে আমরা বেঁচে ফিরেছি, অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান সকলকে ভাগ করে দিচ্ছি।

বাঘের ঘরে হাতির বাসা

[বাবার লেখা সত্যি ঘটনা ]

সে বছর ফিল্ড ছিল ভূটানের পাদদেশে উত্তরবঙ্গের জয়ন্তী এলাকায়। জয়ন্তী নামটি ভ্রমণপিপাসু বাঙালীর কাছে অতি পরিচিত। এলাকাটি বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অন্তর্গত। কাজ করতে গিয়ে তেনার দেখা না পেলেও সক্কাল সক্কাল চরণচিহ্ন দেখেছি পাহাড়ী ঝোরার ভিজে বালিতে। ভোরবেলায় সামান্য বৃষ্টি থামবার পর কাজ শুরু করেছিলাম। জিপ ছেড়ে দিয়ে পাহাড়ী ঝোরার খাত বরাবর পাহাড়ের উপর দিকে উঠছি। হঠাৎ ফিল্ড কুলি ছেলেটি পিছন থেকে জামা টেনে ধরলো। ওর দিকে ফিরে তাকাতে আমার পায়ের কাছেই বালির উপর দেখতে ইশারা করলো। স্পষ্ট থাবার ছাপ। ভোরের বৃষ্টিফোঁটার ছাপের উপর থাবার ছাপ। অর্থাৎ টাটকা। ছেলেটি মন দিয়ে দেখে মন্তব্য করলো বাঘ উপর থেকে নীচের দিকে গিয়েছে। আমরা বাঘ এড়াতে দ্রুত নীচ থেকে উপরের দিকে উঠে এলাম।

তা আমার কাহিনী কিন্তু বাঘের নয় — হাতির। রাজাভাতখাওয়া ছেড়ে উত্তরদিকে জয়ন্তী পৌছতে যেতে হবে দমনপুর জঙ্গল এলাকার বুক চিরে। এ জঙ্গল যেন হাতির চারণক্ষেত্র। ব্যাঘ্র প্রকল্প হলেও হাতিই বড় বিপদ।

সে বছর আমার ডিরেক্টর সেন সাহেব ঠিক করলেন পশ্চিমবঙ্গের ভূ-তাত্বিক চরিত্রের একটা সামগ্রিক ধারনা তৈরী হওয়ার লক্ষ্যে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গ দুই এলাকার ভূ-তাত্বিকদের একত্রিত ফিল্ড করা হবে। উত্তরবঙ্গে আমার সহকর্মী ছিল দেহরাদুনের ছেলে ভূপেন্দ্র সিং, আদরে বা সংক্ষেপে ভূপী। দক্ষিণবঙ্গ ঘুরে সবাই এবার উত্তরবঙ্গে। আমি আর ভূপী আমাদের কাজের এলাকা দেখাব।

একটিমাত্র জিপে আমরা সবাই আরোহী। সামনে চালকের পাশের আসনে সেন সাহেব বসেছেন। আমরা বাকি সবাই জিপের পিছনের সিটে। সকলের চতুর্দিক দেখবার সুবিধার জন্য গাড়ির ক্যানভাস হুড খুলে রাখা হয়েছে। জিপের চালক তালুকদারবাবু। গাড়ির সাইলেন্সারে সামান্য আওয়াজ ছাড়া বাকি সব কিছু ঠিকঠাকই চলছে। সময় পেলে সাইলেন্সারটাও ঝালিয়ে নেব।

ভূপী আর আমি সকাল থেকেই ঘুরে ঘুরে আমাদের কাজ দেখিয়েছি। এবার আমাদের ক্যাম্পের কাছাকাছি এসেছি। এখন গন্তব্য সেই রাজাভাতখাওয়া-জয়ন্তীর পাকা রাস্তা দিয়ে জয়ন্তীর বেশ কিছু আগে ডান হাতের একটা ফায়ার লাইন ধরে জয়ন্তী নদী (দাবানলে জঙ্গলের ক্ষতি কমাতে লম্বা লাইন বরাবর গাছ কেটে সাফ করা হয়, আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রিত করতে — সেই হচ্ছে ফায়ার লাইন)। পাকা রাস্তা ছেড়ে ফায়ার লাইন ধরেছি — ৪-৫ কিলোমিটার দূরেই জয়ন্তী নদী। জঙ্গলের মধ্যে গাছের ফাঁকফোঁকর দিয়ে জায়গায় জায়গায় রোদ এসে পড়েছে। একটা আলোছায়া ভাব।

হঠাৎ ভূপী আমাকে সতর্ক করলো — ও দূরে কালচে রঙের কিছু নড়তে দেখেছে। ফায়ার লাইনের ধারের দিকে। তালুকদারবাবুকে গাড়ি থামাতে বলা হলো। সবাই খুব ভালো করে নজর করলাম বেশ কিছু সময় নিয়ে। সবাই বললো ভূপীর দৃষ্টিভ্রম। গাড়ি আবার সামনের দিকে চলতে শুরু করলো। কিছুদূর যেতে না যেতেই এবার আমার যেন সন্দেহ হলো ডানদিকের জঙ্গল যেখানে ফায়ার লাইনের কাছে শেষ হচ্ছে সেখানে কিছু একটা নড়াচড়া করেছে। আবারও গাড়ি থামিয়ে দেওয়া হলো। আবারও সবাই মন দিয়ে নজর করলাম। কিছুই দেখতে পেলাম না। তবে, এবার নিছক দৃষ্টিভ্রম ধরে না নিয়ে স্থির করা হলো আমরা জিপের মুখ পিছনের দিকে করে ব্যাক গিয়ার দিয়ে জয়ন্তী নদীর দিকে যাব (কলকাতার বাসে কন্ডাক্টরের প্রচলিত নির্দেশ — পিছনের দিকে এগিয়ে যান — মনে করে দেখুন)। বিপদ আসলেই যাতে দ্রুত জঙ্গলের বাইরে পালাতে পারি। এই ভাবে সন্দেহজনক জায়গার দিকে অনেকটা এগিয়ে গিয়েও কোনরকম জনপ্রাণীর দেখা পাওয়া গেল না। তাই আবার গাড়ির ফ্রন্ট গিয়ার, এবং অচিরেই আমরা গন্তব্যে — জয়ন্তী নদীর পার।

একটা ছোট কুটীর মতন, সেখানে বনবিভাগের এক কর্মী থাকে। আশেপাশে কিছু চাষ-আবাদের চেষ্টা। তবে হাতির উপদ্রবে ফসল খুব সামান্যই জোটে। গোদা গোদা পায়ের ছাপ, আর স্তূপাকার বিষ্ঠা ইতস্ততঃ ছড়ানো। সেখানে বেশ খানিক ভূ-তত্বচর্চার পর ফিরতি যাত্রা। একমাত্র পথ সেই ফায়ার লাইন।

দিনের কাজ শেষে ক্যাম্পের পথে। দূর থেকে দেখলাম আমাদের পথের আড়াআড়ি একটা গাছের ডাল পড়ে রয়েছে। জঙ্গলে এক টুকরো গাছের ডাল থাকলে কীই বা অবাক হওয়ার আছে? কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কে ফেলেছে? আমরা ফিরবার রাস্তায় কোনো লোকজনকে যেতে দেখি নি। ভাবতে ভাবতেই সামনের আসন থেকে হঠাৎ সেন সাহেবের চিৎকার — হাতি! একই সঙ্গে তালুকদারবাবুর তৎপরতায় জিপের গতি জাতীয় সড়কে গতির কাছাকাছি। উনি জিপটাকে যথাসম্ভব ডানদিকে নিয়ে গাছের ডালটা এড়িয়ে গিয়েই আবার নিজস্ব পথে গাড়িকে আনলেন। গাড়িতে একটা প্রবল ঝাঁকুনি। আমি জিপের পিছন থেকে দেখতে পেলাম বামদিকের জঙ্গল ফুঁড়ে এক হাতি শূঁড়টাকে সোজা মাথার উপর তুলে মুখে বিকট এক চিৎকার দিয়ে গাড়ির উপর আছড়ে পড়তে চাইছে। প্রথম মূহুর্তে যেন একটা ধূলোর কুন্ডলী হাতিকে ঘিরে। ওর ওজন এবং গতির কারণে নিজেকে সামলাতে না পেরে ফায়ার লাইনের বামদিক থেকে লাইন অতিক্রম করে ডানদিকে গেল। তারপর আবারও ফিরে এসে জিপের পিছনে তাড়া করতে লাগলো। অভিজ্ঞ তালুকদারবাবু ততক্ষণে নিরাপদ দূরত্বে গাড়ি নিয়ে গিয়েছেন। হাতিও একসময় দৌড় বন্ধ করলো। হাতি দৃষ্টির বাইরে যাওয়ায় তালুকদারবাবুকে জিপের গতি কমাতে বলা হলো — ঐখানে ঐ অবস্থায় জিপ বিগড়ালে আরও বিপদ।
পাকা রাস্তায় পৌছে জিপের মুখ — না ক্যাম্পের দিকে নয়, আলিপুরদুয়ারের দিকে। সাইলেন্সারটা ঝালাই করতেই হবে।

Worrying about it

I think I remember that when I read The Alchemist by Paulo Coelho, there was a story in it of the alchemist, who only wanted to make gold. A great sage told him that he would succeed with his ingredients, if only he added one more: unshakable confidence that he would be successful.

I may have just found the lesson that is common to insomnia, sex drive, and the above story:

‘Worrying about it doesn’t help.’


In the fall of 1989, in the quiet Swedish town of Hälsingfors by the Tiveden forest, children began to disappear.

Within a span of five weeks, eight children, all under the age of seven, went missing while playing by themselves outdoors at night. After fruitless investigations within the community, the local police organized search parties into the adjacent forest. Immediately, they found clothing and toys among the underbrush, which they followed as far into the woods as the dense growth would allow. But no child was ever found, nor ever any evidence of violence or struggle.

As the weeks passed, the well-educated community began to recall, in private whispers lest they be ridiculed, a forgotten local folklore: the story of the nattväsen, the night creatures. In the old days, grandmothers would tell stories of the animal-entities of the forest to curb the curious child from venturing close to the woods. The stories never described these creatures, but spoke of them emerging at nightfall from the Tiveden, forest of the gods, to visit imaginative, adventurous children that were no older than seven, play with them, then lead them into their forest.

The eight children were never found, but as the community hastily tightened security, no more went missing. And in a few years, the incident had all but faded from the collective memory.

In 2017, the Swedish ambient music duo Carbon Based Lifeforms added a new track to their European tour, called Nattväsen. It contained an audio recording of the Hälsingfors Chief Inspector de-briefing after a failed search party, and the words of a dementia-afflicted local old lady who claimed to have been taken and returned in her childhood by the night creatures.

The unfamiliar narrative was regarded by the concert crowds as meaningless space-filler in an otherwise instrumental format, and drew scant attention.

But one night, in a small EDM den in Hamburg’s Reeperbahn club district, Namio Takaki, a Japanese anthropology exchange student who had grown up near the Aokigahara suicide forest, found himself unable to ignore the lyrics. As the band kept playing, first disbelief, then years of near-extinguished trauma broke forth and rose steadily upward through his chest, until he had to scramble his way out through the crowd to the parking lot to be able to breathe again.


The following pages contain an account of my personal journey into this mystery, of how I flew too close to the sun in my three years of travel and investigation to unravel a global enigma, and came back from the edge of human reason and the natural laws that purportedly hold this world together.